Fri. Oct 18th, 2019

রঙিন অক্ষর সম্পর্ক

অভিষেক কর (হেম)

1 min read
Spread the writing

চেয়ে দেখো, চারিদিক কেমন গুমোট হয়ে আছে না!
একটা অহেতুক নিস্তব্ধতা কাজ করছে তোমার-আমার মাঝের রেললাইনটায়
দিনে-একবার কি দুবার টিকে-থাকার প্রচেষ্টায় আমাদের যোগাযোগ ঘটে—
কিন্তু হ্যাঁ, সেটা শুধুই ‘প্রেমে যোগাযোগ রাখতে হয় বলেই’।
ভালো করে দেখো, কোথাও একটা হারিয়ে গেছে আমাদের মধ্যে ‘এমনিই হওয়া কথা’
তুমি শেষ কবে বলেছিলে, “চুপ করে, ফোনটা না কেটে ঘুমাও, তোমাকে প্রমাণ করব তুমিও নাক ডাকো”?

কি যেন একটা হচ্ছে,
যেটা হচ্ছে সেটা উচিত-ছাড়াই হচ্ছে
আর আমরা কেমন হাসতে-হাসতে ভালবাসতে-বাসতেও দূরে সরে আসছি।
কোথাও কোনো ঝগড়া হয়নি, মতবিরোধের কারণ সকাল থেকেও নেই
এবং আজ দুজনেই বেকার…
তবু, কেমন আর কেনো কথাগুলো পরের জন্য তুলে রাখছি?
নতুবা কথা হলেও, আমাদের কথায় সবাই আছে শুধু আমরাই নেই!
এমনকি আমাদের কথায় পাড়ার মোড়ের দোকানটার রোজকার বিক্রিবাটার হিসেব আছে;
তবু আমাদের কথা নেই।

কিছু তো একটা হচ্ছে যা ‘তুমি-আমি’র মাঝের চুম্বকে জং ফেলছে,
আর আমরা তা বুঝেও তেমন খেয়াল করছি না!
শুধু আবার একটা নতুন কথা পেরে ফেলছি—
কিন্তু সেখানেও আমরা নেই।
শোনো,
এটা কিন্তু খুব গুরুতর ব্যাপার।
উঠে বসো, ইয়ারকি নয়।
এটা ঠিক হচ্ছে না,
কিগো কাছে আসার কথারা এমন হারিয়ে গেলে চলবে?
তুমি মন দাও আরেকটু আমার মনে,
আর ফিরে আসো ঘ্যানঘ্যান অদরকারী গল্পে
যেখানে তুমি-আমি শুধুই আছি আর আছে সব কথাতেই একঘেয়ে ‘আমাদের-আমাদের’ শব্দরুপ;
চলো,
একটু জোর করেই কাছে আসি—
কাছাকাছি আসতে হয় বলেই আসি,
তবু,
আরেকবার দূর-থেকেই শুরু হোক প্রকাণ্ডভাবে জড়িয়ে-যাওয়ার একটা বর্তমান।।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

অকপট কবি

কবি অভিষেক কর,
জন্ম ৭’ই জুন ১৯৯৩
জন্মস্থান- কলকাতা।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপনে স্নাতক ও রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবাধিকার ও মানববিকাশ বিভাগে স্নাতকোত্তর।
লাফালাফি নামক এক ডিজিটাল মিডিয়া পোর্টালের সৃজনী পরিচালক এবং ২০১৩ থেকে এলজিবিটি তথা সমকামীদের ন্যায্য অধিকারগত আন্দোলনের সাথে যুক্ত।
নিজেকে প্রগতিবাদ নারীবাদী হিসেবে ব্যাখ্যা করা এই অভিষেক সম্প্রতি ২০১৮ সালে লিঙ্গ বৈষম্য বিরোধী এক স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘মাম্মাম’ পরিচালনা ও অভিনয় করেছে
পলাশ নামক এক সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্ণধার হলেন কবি অভিষেক কর।।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

আমি যদি ভীষণ-গরমকালে তোমার গায়ে-গায়ে লেগে থাকি,
যদি ভরদুপুরে ঠোঁটে-ঠোঁটে পূরে চুমু খাওয়ার আবদার করি
যদি তোমার স্নানে যাওয়ার তাড়াহুড়ো তেও প্রেমের কথা বলতে বলি—
আমাকে ডুবিয়ে মেরো তোমার বাড়ির থেকে দু-তিন পাড়া দূরের পানাপুকুরে
এবং আবার একটা ফুরফুরে প্রেমের অপেক্ষা করো;
শুধু মনে রেখো,
ভীষণ-ভালবেসেছিল কেউ।

যদি এক খুব ঘুম-পাওয়া দুপুরে ঘুরতে যাওয়ার বায়না ধরি
আমি যদি তোমার হাতটানের মরশুমে পাঁচ টাকা দিয়ে লঞ্চ চড়তে চাই
আর যদি কানের-দুল কিনে দিতে বলি—
আমাকে শহরের বেনামী কোনো গলিতে ফেলে রেখে বাড়ি ফিরে যেও
তারপর আবার একটা বাজেটহীন প্রেমে পড়ো;
শুধু সত্যিটা স্বীকার করো,
ভীষণ ভালবেসেছিল কেউ।

ধরো,
যদি ভিড় বাসে তুমি আছো, আর আমি জোর করি ফোনে কথা বলার জন্য
যদি মিটিং-এ থাকা তোমাকে বারংবার ‘কি করছো’ লিখে মেসেজ করি
যদি বাড়ি-ভর্তি আত্মীয়র সামনে ক্ষণেক্ষণে ভিডিও-কল করি;
আমার নাম-ধাম-নম্বর একেবারে উড়িয়ে দিও সব জায়গা থেকে
তারপর রিসাইকেল-বিন ঘেঁটে খুঁজে এনো কম-বিরক্ত করা পুরানো-প্রেমিকা;
শুধু আরকাইভে লিখে রেখো,
ভীষণ ভালবেসেছিল কেউ।

কাল যদি আর মুখ-দেখাদেখির ইচ্ছে না রাখো,
কাল যদি এখনের থেকে স্বস্তির প্রেম পাও,
কাল যদি আমি-টাকে খুব খারাপ মনে হয়…
তুমি নিঃসন্দেহে যেতে পারো অন্য প্রেমে, সবাই তো তাই গেছে
শুধু মনেমনে একবার বিশ্বাস করো,
ভীষণ-ভীষণ ভালবেসেছিল কেউ।।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

বৃষ্টি কেনো হয়নি সেদিন, যেদিন চোখ বয়ে নেমেছিল তোমাকে আঘাত-দেওয়ার শাস্তি?
ওই যেদিন তুমি ভীষণ কষ্ট-পেয়ে আমাকে আরো-বেশি কষ্ট দিলে…
সেদিন মেঘ করেছিল খুব, তবু বৃষ্টি কেনো হয়নি?
আমার-তোমার কথাকাটাকাটি গ্রীষ্মকে দারুণ প্রতিযোগিতা দিয়ে—
মনটাকে পুড়িয়ে-পুড়িয়ে ফোসকা ফেলেছিল প্রেমিকা-আমার চামড়ায়;
সেইবার বৃষ্টি পড়েনি আমার পাড়ায় কিংবা তোমার দপ্তরখানায়!
যেইবার মনে হয়েছিল তোমার আমায় ভীষণ ভুল
আর যেই বার আমিও মেনে নিয়েছিল তা ঠিক
সেদিন মাঝরাতে আকাশ হুংকার তুলেও বৃষ্টি কে আটকে দেয়।

শুধু সেই-সেইক্ষণ বৃষ্টি ছুঁয়েছি যেই-যেই মিনিট আগে তুমি আমার প্রেমে ধন্য থেকেছো।
যেই বিকেলগুলোয় আমার বাম-হাতের আঙুলে চুমু খেয়েছ— আপন-ইচ্ছায়
সেই সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়েছে টাপুর-টুপুর।
বাড়ি ফিরে যেদিন স্নানঘরে তোমার খাওয়া কামড়ের দাগে হাত বুলিয়েছি, মুগ্ধ নারী—
সেই মুহূর্তে বৃষ্টির গন্ধ উঠেছিল দিন-পোড়া উষ্ণ দালান থেকে;

আমি বুঝি এবং বিশ্বাস বৃষ্টি আমাদের ভালবাসে,
ভালোবাসে আমাদের দাম্পত্য
আর তাই তো সাক্ষী দিয়ে যায় আমাদের একসাথে থাকার ভবিষ্যতবাণীর…

এবার
যেদিন-যেদিন তুমুল প্রেমে মারাত্মক ব্যথা পেয়ে আমরা ঘর বন্ধ করে সম্পর্কটা ভাঙতে যাবো,
সেদিন যদি একটুখানি হলেও মেঘ ঘনীভূত হয়!
তার পর থেকে যতবেশিই ঝগড়া হোক না কেন,
আমি আর তোমাকে হারানোর ভয় পাবো না।

…বৃষ্টি তুই ঝড়-তুলে ভাসিয়ে দিস সেই প্রত্যেক গলিপথ আর ক্রসিং এবং বাসস্ট্যান্ড—
যেখান আমরা প্রেমের মন ভেঙে ঘরে ফিরেছি।
আমাদের হারাতে দিস না, প্লিজ!
ও হারিয়ে গেলে আমার আর বৃষ্টি তে ভেজা হবে না,
বরঞ্চ বৃষ্টি ভিজে কান্নাকাটি হবে আজীবন আর মৃত্যু…।।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

শোনো না,
একটা কবিতা লেখো আমায় নিয়ে।
একটা কবিতা যেটা প্রেমের তবু অভিমানের।
একটা কবিতা যেখানে ছেড়ে যাওয়া নেই, তবে কথা-বন্ধ থাকার সাক্ষ্য আছে
একটা কবিতা যেখানে ছন্দ মিলিয়ে-মিলিয়ে আমাকে অপবাদ দেবে, দোষারোপ করবে—
তোমাকে ভুল বোঝার জন্য।
একটা কবিতা লেখো তুমি,
যেখানে আঁকড়ে ধরছো তুমি আর আমি ছেড়ে যাই বদরাগে;
একটা কবিতা লেখো প্লিজ, যেখানে আমি খুব খারাপ
তবু তুমি থাকতে চাও।

শোনো না,
সেই কবিতায় আমাকে খুব করো গালি,
কালি লেপে দাও আমার ভুল-বোঝার স্বভাবে…
কবিতার দাড়ি-কমা-সেমিকোলোন দিয়ে আঘাত করো সন্দেহবাতিক-আমায়
প্রতিটা লাইনে যেন আমি কাঠগড়ায় দাঁড়াই
আর আসামী প্রমাণ হই;
তারপরও শেষ লাইনে গিয়ে আমার গলা-বুক-কোমর জড়িয়ে ভালবেসো,
তাহলেই হবে।

শোনো না,
এত প্রেমের কবিতার পরেও তো তোমার মনে কষ্ট দিয়েছি লক্ষ!
তোমার এত সোহাগ পরেও দু-চার রাত তুমি কেঁদেছো প্রেমে হেরে!
এবার একটা ঝগড়া করার কবিতা লেখো—
তুমুল বিদ্বেষ আমার জন্য থাক সেখানে
সেখানে থাক আমাকে আঘাত করা সত্যি, থাক আমার দোষী হওয়ার পরিস্কার দলিল…
এবং তারপরেও—
শেষে গিয়ে তোমার রাগী কলম যেন আমার নামের পাশে লেখে,
“অতএব তোর সাথে কষ্টকরে থাকব, কিন্তু তোকে ছেড়ে কষ্ট পাবো না”।।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *