Fri. Oct 18th, 2019

রঙিন অক্ষর সম্পর্ক

অর্ঘ্যদীপ আচার্য্য

1 min read
Spread the writing

মুলতুবি

কাকতাড়ুয়াই সুপারহিরো,

জোর ফলানো, আটকে রাখুন গদি –

সবার উপর মানুষ সত্য,

তাহার উপর সত্য দ্রৌপদী ।

মাঠের ধারে ঢেউপিচাশের,

প্রতি মাসেই বাছাই পাকা চুল –

শখের বয়স পেরিয়ে এলেন,

এখন তো সব ক্যালানে মাস্তুল!

পেগের পরে পেগেই কোমর,

তারও নিচে সভ্যতাজ্বর ফিনিশ –

লোভ লালসা – জল পিপাসা,

রাতবিছানায় সবই তো এক জিনিস।

সময় এখন বাসন মাজুক,

চিলশীৎকার, নীলচে পালক ছাড়াই –

গদ্য লিখুন শ্বেতবসনে,
আসুন না আজ, খুব কালচার মাড়াই!

লুপ্ত হাঁসের সুপ্ত ডিমে,
বিড়ালমুখোশ, ব্যস্ত দেখান খুবই –
অবাক হয়ে মানুষ দেখে,
ঘেন্না করাও রেখেছি মুলতুবি ।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

তফাৎ

পারো যদি তবে ব্যথা রেখে যেও আজ,
আলোর দুঃখ, শুধু অন্ধই জানে-
ক্যাফের বাইরে বৃষ্টির কারুকাজ
কান্না মুছিও রুমালের সম্মানে।

কেউ ফিরে চায় বিদায়ের সম্মতি,
চশমার কাঁচে বিষাদ লেগেছে কিছু –
প্রিয় ঈশ্বর, রাখে মানুষের প্রতি,
সমান দুঃখ, সকলের মাথাপিছু।

নিঃস্পৃহতায় আলগা হচ্ছে, হোক
বোকা লোক তবু জেনেশুনে রাখে মনে,
কিছু মানুষের মৃত্যুও সার্থক-
তাকেই তোমরা ভালোবাসো, প্রয়োজনে।

যদি ভেঙে পড়ে ফেরার দিকের সেতু,
তবে দূরত্ব মেখে নেওয়া সমীচীন,
তারা খসে পড়ে, নিভে এলে ধূমকেতু –
সৌধের আছে শহীদের কাছে ঋণ।

তোমার গায়ের, প্রতিবেশী এক রোদ,
অপমানে ভিজে, শেষ চুমু যায় থেমে।
আমাদের কাছে লেখা মানে প্রতিশোধ –
এটুকু তফাৎ, ছেড়ে যাওয়া আর প্রেমে।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কবি পরিচয়

অর্ঘ্যদীপ আচার্য্য-র জন্ম কলকাতাতে ১৯৮৩ সালে। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করার সুবাদে লেখার হাত তৈরি হয়ে গেছিল ছোটবেলা থেকেই। বাড়ির সাহিত্যমনস্ক পরিবেশে বড় হয়ে ওঠার সুফল হিসাবে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন প্রচুর বই পড়ার অভ্যেস। আজও যত না লেখেন, তাঁর থেকে পড়েন বেশি।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের থেকে ইলেক্ট্রনিক্সে স্নাতকোত্তর শিক্ষা সম্পূর্ণ করার পরে যোগ দিয়েছিলেন কলকাতার তথ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র সল্ট লেকের সেক্টর ফাইভের একটি তথ্য প্রযুক্তি সংস্থায়। আজ তিনি অপর একটি বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার উচ্চ পদে কর্মরত।

পেশার সঙ্গে নেশার ব্যবধান বিস্তর। সারা দিন দেশ বিদেশের মানুষদের সঙ্গে কাজ করার পরে এক অফুরান মনন রেখে দিয়েছেন নিজের কাছে। কর্পোরেট পেশার অপরিসীম ব্যস্ততা সামলে লিখে চলেছেন একের পরে এক কবিতা।
অর্ঘ্যদীপ কোনওদিন ভাবেন নি, লেখালেখিটা খুব যত্ন নিয়ে করবেন। নিজের জীবনের কথাগুলো নিজের জন্যই লিখতে শুরু করেছিলেন ফেসবুকে। একের পরে এক মানুষ তাঁর লেখা পড়ে মুগ্ধতাবোধ প্রকাশ্য করেছেন। এখন তিনি ফেসবুকে লেখা দেবেন বলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন তাঁর পাঠক পাঠিকারা। স্বভাবনম্র এই মানুষটি সররাচর ভিড় এড়িয়ে চলেন। কোনও কবিতাপাঠ, সাহিত্য সমাগমে দেখা যায় না তাঁকে। কিন্তু অলক্ষ্যে বসে লিখে চলেছেন একের পরে এক এফোঁড় ওফোঁড় করে দেওয়া লাইন।
তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে ২০১৯ সালের কলকাতা বইমেলাতে, আর আবির্ভাবেই নিমেষে নিঃশেষ হয়ে গেছে প্রথম সংস্করণ। অর্ঘ্যদীপ আরও লিখুন, তিনি যতবার লেখার কাছে ফিরে আসতে পারবেন, বাংলা কবিতার সাধারণ পাঠকরা ততোই পাবেন নিজেদেরকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার এক একটি অমোঘ পঙক্তি।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

শেষ নারীকে

সূঁচের আগায় গেরস্থালী, হলুদ, জিরে, গরম চা –
আলনা জুড়ে গুছিয়ে রাখা, জীবন জুড়ে অবজ্ঞা ।

রান্নাখেলায় পুরুষ সেজে, বাবা, ছেলে, এবং বর –
সভ্যতাদের পায়ের কাছে, কোথায় যেন নিজের ঘর?

আঁচল দিয়ে আকাশ বাঁধা, সমর্পণের নিঃস্ব মাঠ –
বালিশ ভেজার শুকনো দিনে, রোদ ভিজে যাক, এ তল্লাট ।

যুগ পেরিয়ে জেদের আবির, জানলা দিয়ে যে সংশয় –
আমার দেশের পরিত্রাতার, অন্ধকারেই আজও ভয় ।

রেলিং দিয়ে সময় ঘেরা, সমর্থনের কি সংগ্রাম –
আমার আকাশ দুভাগ হলে, প্রথম ভাগেই তোমার নাম ।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কেউ তোমার কথা জানতে চায়নি

তারপর ধীরে ধীরে হ্যারিকেন জ্বালিয়ে রাখে ভাতফোটানো আঁচল,
ট্রামবাসট্যাক্সিমেট্রোওলাউবের কিছু একটা দাঁড়ানো গলির মুখে।
বইমেলাতে আমার জন্য এ বছরেও ছুঁয়ে দেখার মতো কিছু রেখে গেল না কেউ,
সবাই শুধু জানতে চাইল তোমার ঠিকানা।

আঁচলে লেগে থাকা অজুহাতগন্ধে
দিনগুলো নিদারুণ ব্যস্ততার হলে, রাতটা তো দুরন্ত প্রেমিকের।

চারদিকে ছড়ানো যতিচিহ্ন, অর্ধমৃত চক্রবৃদ্ধি ক্ষতির মাপে –
সেন্ট হেলেনার পরিযায়ী নির্বাসনের হিসাব কে আর রাখে!
এখন ঝুলকালিমুখেরমুখোশ নিষিদ্ধ পোশাকে
শুতে যাও রাতে, দুরন্ত প্রেমিকের ঘামগন্ধের ঘেন্নায় ।
আধখাওয়া মদের বোতল, বস্তি থেকে জোর করে তুলে আনা মেয়ে,
কোমলমতি প্রেমের কবিতা আর সুরভিত আ্যন্টিসেপ্টিক ক্রিম
জড়িয়ে থাকে রাতঘুমহীনতা।

বইমেলাতে আমার জন্য এ বছরেও কিছু ছুঁয়ে গেলো না কেউ,
সবাই শুধু জানতে চাইল তোমার ঠিকানা।

কারণ, আমি বুঝতে পারি নি…
কবিতা হওয়ার আগে, মানুষ হয়ে ওঠার ছিল তোমার।
রুমালের জল শুকোলে, কোনওদিন গলির মুখে এসে দাঁড়িও।
সে বছর বইমেলায় আমায় ছুঁয়ে যায় সবাই, কিন্তু কেউ আর জানতে চায় না তোমার ঠিকানা।
আসলে, ততদিনে, তোমার ঠিকানাটাই ভুলে গেছি আমি,
আর..
কোনও বইমেলাতেই কেউ তোমার কথা জানতে চায়নি কখনও।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

অন্যজীবন

সমস্তটাই মুছতে হবে, দু-দশ বছর, নতুন করে,
নভেম্বরের যে বিপ্লবে, খুঁজবে আমায় কোন শহরে।

আদর নরম, ঠোঁটের কামড়, যাওয়ার আগেই সঙ্গে নিও;
তোমার যেটা ঘুম হয়ে যায়, সেটাই আমার তেজস্ক্রিয় ।

অদৃশ্য সব মাদুর পাতা, ভাত-কাপড়ের, মুখোশদোষের –
বান্ধবীরাত গল্প বলে, আমার-তোমার-শঙ্খ ঘোষের ।

ভেতর ভেতর কমছে সময়, উত্তাপে আর অতীত জ্বরের ;
দেখবো আবার পরের জীবন, তোমায় নিয়েই, জাতিস্মরের ।

ডাক পিওনের অসুখ চিঠি, আমায় নিয়ে কোথাও কোনও –
নীরবতার কয়েক মিনিট, করবে পালন শব্দহীনও ।

অন্যজীবন যতই থাকুক, জলভরা দিন, একলা ফোনে ;
শেষ কটা দিন আমায় দিও, তোমার সাথে, মনকেমনে ।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

3 thoughts on “অর্ঘ্যদীপ আচার্য্য

  1. অনবদ্য।মনের আতিথেয়তায় সম্পৃক্ত অক্ষর।

  2. অসাধারণ ছন্দেরমুন্সীয়ানা অন্য মাত্রা দিয়েছে।বেশ ভালো লাগলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *