Tue. Sep 24th, 2019

রঙিন অক্ষর সম্পর্ক

কৃপা বসু

1 min read
Spread the writing

সুপারম্যান ও একটি প্রেমের গপ্পো

একদিন সুপারম্যান হয়ে উড়ে যাবো তোর কাছে। গুমোট দুপুরে ব্রাশ দিয়ে ঘষে ঘষে আকাশের ছাদ থেকে রোদ মুছে নেবো। দু চারটে ফ্যান ঝুলিয়ে দেবো, হাওয়া দেবে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে, বাথরুমে বালতিতে উপচে পড়বে জল। হৃৎপিণ্ড থেকে ছিটকে আসবে ঝাঁঝালো মসলাগন্ধ…

তোর পাশে পায়ে পা ঠেকিয়ে বসবো, রান্নাঘরে মামলেট ভাজার সময় চোখ ঝাপসা হয়ে আসবে তোর, কোই বাত নেহি জান! পেঁয়াজের রস ভেবে দিব্যি চেটে নেবো।

ওসব ন্যাকা ন্যাকা চাঁদ সূর্য নিয়ে কাব্যটাব্য আমার দ্বারা ইম্পসিবল। এক কাপ চা খেতে গিয়ে যখন তখন মেঘ করে আসবে ভেবে রুমাল দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরবো, হাঁপাবো, ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলবো।

শোন, শিগগিরই আয়! তোর মেয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার আগে তুই আমার ভেতর নেমে যা প্লিজ, যেভাবে ঘামের কুচি নেমে যায় কপাল থেকে কোমরের নীচে, কিংবা ধর যেভাবে সব মানুষই মরার পর মিশে যায় শ্মশানকবরে…

একথালা ভাত খাওয়ার জন্য কত লোক, বন্দুকগুলিবারুদ নিয়ে ওলটপালট করে গেরামশহরমফস্বল, লাথি মেরে উল্টে দেয় মন্দিরমসজিদ। নিজের সন্তানকে মুখ খোলা তরোয়ালের জিভে গেঁথে আসে হাসতে হাসতে, আর তুই আমার জন্য এটুকু করতে পারবিনা, বল!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

বৃষ্টি তোমাকে দিলাম

দুজনেই পাশাপাশি বসে, কেউ কারোর দিকে তাকাচ্ছেনা, ছুঁয়েও
দেখছেনা কার ভেতর ছুটছে ঘোড়া, কার ভেতর নিভছে আলো…

হারামজাদা হাওয়া ওদের মুখে বারবার ঝাপটা মারছে, আর
কিছু মেহসুস হচ্ছেনা, অলৌকিক রুমালে চোখ বাঁধা ওদের..

দুজনেই ভালোমতো জানে, মগজের উপর প্যাঁচালো ঘুড়ি বা
রিপু করা ছাতা নয়, স্বয়ং মৃতদেহ বয়ে বেড়ানো ধর্মের সেনারা
করছে বাস…

ছেলেটার বিয়ে কাল ব্রাহ্মণ পরিবারে। মেয়েটাকে বাসে করে
ফিরতে হবে বাড়ি, নামাজের সময় হয়ে এলো…

নাহ, যাবার সময় কেউ কাঁদেনি, তবে গলার কাছে কিছু একটা
আটকে ছিল বোধহয়, ঠোঁট দুটো স্রেফ নড়ছিলো খানিক, কোনো
শব্দ ছিলোনা যার, যেভাবে জলের ভেতর নড়তে থাকে ফাতনা…

ছেলেটা রোদ্দুর হতে চেয়েছিল, মেয়েটা ছায়া…
ছেলেটা বেড়াল হতে চেয়েছিল, মেয়েটা কোল…
ছেলেটা ছাদ হতে চেয়েছিল, মেয়েটা ঘর…

তারপর আর দেখা হয়নি তাদের।

সেদিন শহরে বৃষ্টি নেমেছিল, কারোর কোনো ক্ষতি হয়নি,
গোটা রাজ্য ডুবেছিল চপ মুড়ি আর স্টার জলসায়,
স্রেফ দুটো ঘর ভেসে গিয়েছিল, কেউ পায়নি টের।

প্রতিটা ভালোবাসাবাসির একটা করে ধারালো নখ থাকে,
যখন সেটা আঁচড়ায়, খাবলা খাবলা মাংস তুলে নেয়,
বসন্তের পাতার মতো ঝরে ঝিরঝিরে রক্ত…

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কবি অকপট

৯ নং সাহিত্য পাড়া লেন থেকে প্রকাশিত লেখিকা কৃপা বসুর কাব্যগ্রন্থ “দ্রাঘিমা ও প্রত্নবালিকা’ (২০১৮)

কবিতা লিখবো ভেবেই লেখা শুরু করিনি। অনেকের লেখা পড়তে পড়তে মনে হয় আমি নিজেও কিছু লিখি, যেটুকু আমি কাউকে বলতে পারিনা, সেটুকু লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করি। ব্যস তখন থেকে লেখা শুরু, আর লিখতে লিখতে এক একটা লেখা কখন কবিতা হয়ে গেছে, বুঝতে পারিনি। অবসর সময়ে নাচ আঁকাআঁকি টুকটাক করি।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

অপ্রকাশিত কবিতা

১.
লুকিং গ্লাস দিয়ে দেখলে ভুট্টা খেতের উপর যে পাখিরা হাঁটাহাঁটি করে,ঠোঁটের কিনারে আসলে তারা অধিকার দখলের জেহাদী ভাষা বুনে চলে।

বিধর্মী রক্তের নোনা স্রোতে ভেসে যায় আব্রুহীন দুপুর-বারান্দা।

২.
সংসার পুড়িয়ে যারা শ্মশান কিনেছে,মেঘের শাড়ি ছিঁড়ে যারা চাঁদ গিলে খায়,মা রঙা ভাতের স্বাদ তারা ভুলেছে চিরতরে।

চোখের চৌকাঠ বেয়ে নেমে আসে শিশিরের ফুল।

৩.

বুকের খাঁজে যে ক্লোরোফিল জেগে থাকে তা আদতে একপ্রকার অসুখ।

সাবানের মতো ঘষে ঘষে সংসার মেখে ফেলি গায়ে
বঁড়শিতে গেঁথে দিই যাবতীয় প্রেম,

শীতের নোলক পরে শুয়ে থাকা রাস্তায় হে আর্যপুত্র একটু আগুন জ্বালতে পারো?

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

ক্লোরোফিল ও মানুষ

৬.
জুতোরা ঠিকানা হারালে পায়ের পাতাও দিকভুল করে।

৫.
ছৌ থেকে নাচ খুলে নিয়ে ময়লা ঘুঙুর ভাসে কুয়োতলার জলে।

৪.
দুম করে গোটা শীতকাল নিভে গেল মরা পাখির ডানায়।

৩.
হরাইজন্টাল লাইনের উপর শোয়া যুবতী নৌকা, ডুবুরি এসে স্নান সেরে যায়।

২.
হাতের শাঁখায় লেগে থাকা আদরে কান পাতলে রাতের শীৎকার শোনা যায়।

১.
প্রেক্ষাগৃহ পূর্ণ হলে, নগ্ন ঈশ্বর বেরিয়ে আসে চাকচিক্য পর্দা ছিঁড়ে।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

  •  
    74
    Shares
  • 68
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  

2 thoughts on “কৃপা বসু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *