Tue. Sep 24th, 2019

রঙিন অক্ষর সম্পর্ক

কৌস্তভ

1 min read
Spread the writing

চিহ্নপত্রের হাতছানি (গুচ্ছ কবিতা)

১/

একটা বিস্ময়বোধক চিহ্নের চারপাশে ঘুরে চলেছি। 
বোধ শব্দটা এখন অলীক। রূপকথার মতো —
একটা বিস্ময়বোধক চিহ্নের পরিধি যতদূর, 
ততদূর কখনো তোমার ভাবনা পৌঁছবে না ! 
তোমার ভাবনায় দাঁড়ি টেনেছে মগজ।
পূর্ণ যতি —
অথচ এখানে তো তোমার খানিক বিশ্রাম নিয়ে 
আবার এগিয়ে যাবার কথা ছিল! 
মনে পড়ছে ? আর তাই তো তুমি
ব্যাগভর্তি ক’রে কমা এনেছিলে,

প্রত্যেকটা মাইলস্টোনের জায়গায় একটি ক’রে 
কমা বসিয়ে তুমি হেঁটে যাবে দূর বহুদূর… 
কথা দিয়েছিলে তুমি একদিন, 
আজ ভাঙছ বিশ্বাস। 
একটু ক’রে দূরে সরে যাচ্ছি আমরা, 
সবার থেকে —
যেসব দূরত্ব হাইফেন দিয়েও 
জুড়ে নেওয়া যাবে না !

এখন ‘মানুষ’ শব্দটার পর বারবার 
জিজ্ঞাসা চিহ্ন বসাতে ইচ্ছে হয়।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

২/

জীবাশ্ম আসলে পৃথিবীর শরীরে উল্কি,
গুছিয়ে সাজানো দেহপ্রান্তরে। 
অথচ এই উল্কির জন্য দধিচির মতো 
হাড় দান করেছিল যেসব প্রাণীরা, আজ 
তাদের মনে রাখে শুধু ইতিহাসের পাতা —

আমরা প্রমাণ বলতে যদি চিহ্ন বুঝি,
জড়ুলের দাগ থেকে যদি মানুষ চেনা যায়, 
যদি আকাশে তারার চিহ্ন দেখে
আমরা রাত ব’লে মানি, তবে 
প্রত্যেকটা জীবাশ্মের দাগে যে প্রাণীরা
দান করেছে দেহ,

আমরা কেন বিস্মিত হই ?

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

অকপট কবি

প্রকাশিত দুটো বই নিয়ে লেখক

জন্ম ১৬ই নভেম্বর, কলকাতায়। বাড়িতে ছোট থেকে সাহিত্যের আবহেই বেড়ে ওঠা। প্রথাগত পড়াশোনার সাথে সাথেই কবিতার প্রতি অনুরাগ। প্রথম প্রকাশ ২০১৪ সালে, পুজো সংখ্যায়। তখন থেকেই পদবি বর্জন। তারপর নানান সাহিত্য পত্রিকায় লেখা শুরু। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঠোঁটের মফস্বলে’, প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায়। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘অপ্রেমিকের চিলেকোঠা’ প্রকাশিত বিগত কলকাতা বইমেলায়।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

৩/

তখন অবশ্য সাঁকোটা মজবুত ছিল খুব।
তখন অবশ্য সাঁকোর নীচে ছিল
তীব্র জলে আনাগোনা, 
অল্প বয়সের উচ্ছ্বাস।

সমস্ত সকাল ধ’রে এ যাচ্ছে অফিস
তো ও ক্লাস নিচ্ছে ইস্কুলে, 
হয়তো সে দুপুরের ট্রেনে ফেরি করছে
সুগন্ধি গান ! অথবা তার হাত ঘুরে 
লেখা হচ্ছে দু’- চারটে ভাঙাচোরা কবিতা —

বিকেল হলেই সাঁকোর দু’দিক থেকে 
দু’জন এসে ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে এক বিন্দুতে। 
সারা পৃথিবীতে এমন বিন্দু 
নেহাত কম নেই !

জেনে রেখো, এমনই বিন্দুরা জুড়ে জুড়ে 
ঠিক একটা সরলরেখা হ’য়ে
ছুটে যাচ্ছে এই মন থেকে অন্য মনে —

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

৪/

একটা কবিতা লেখার পর থেকে নিজেকে 
আর ধরতে পারছি না। 
প্যান্ট গুটিয়ে কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে, 
দেখছি চারপাশে ঘোলাজলে মাছের বাজার —
শহরের ভিতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে 
বের ক’রে আনছে প্রতিবেশী মুখ !

তহবিলে ত্রাণের বদলে পড়ছে লাশ।
কিন্তু কিছুতেই নিজেকে ধরতে পারছি না !

এই যে সাঁকো বানালাম কবিতা দিয়ে,
ফসফরাস দিয়ে আলো জ্বাললাম লাইনে,
যতিচিহ্নকে বানালাম সিগনাল, নিরীহ দেবতা।

ফেরার পথে তোমার কাছে আসার কথা ছিল। 
নিজের কাছেই পৌঁছতে পারিনি এখনও —

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *