Tue. Sep 24th, 2019

রঙিন অক্ষর সম্পর্ক

তন্ময় দাস (উন্মাদ)

1 min read
Spread the writing

চ্যালাকাঠ

অফিস ফিরতি পথে ঝাপখোলা মুদি’র দোকানটি রোজ দেখি। মুদিও বসে থাকে একমনে,প্রতিদিন। বাতিটাও টিমটিম করে জ্বলছে, মুদিও বোধহয় দপ নিভে যাবে এভাবেই,একদিন।

দোকানটি ধীরে ধীরে শ্মশান হয়ে ওঠে, মুদি হয়ে ওঠে চ্যালাকাঠ। তবুও সে ঠাঁয় বসে থাকে; অপেক্ষা আগুনের।

শ্মশানের সাথে চ্যালাকাঠের সম্পর্ক চিরদিনের; ঠিক যেমন মুদি ও ঝাপখোলা দোকানের।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

মৃত্যু

যারা চলে গেছেন শেষ হাসি হেসে,
যাদের প্রতিবিম্ব চিরশ্রী; আমি তাদের
সাথে দুদণ্ড সময় কাটাতে চাই। আমি তাদের
সাথে স্বপ্নঘোর রাত কাটাতে চাই; আমি তাদের
সাথে ভাগাভাগি করে নিতে চাই আমার ভালোবাসা
স্নেহ, দিন। প্রিয় বন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নিতে চাই।

আমি ডোমের সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই। তাঁর ঠোঁটে অমোঘ মৃত্যুর স্বাদ। তাঁর প্রতি আমার মায়ামাখা টান,
আমি তাঁর কাছে নিজেকে সপে দিতে চাই।

আগুনের দম্ভে পুড়ে যাক অহঙ্কার, শেষ ব্যথা।

প্রিয়জনের আর্তনাদ উপেক্ষা করে আগুনে নিক্ষেপ করা হচ্ছে একমুঠো ধুনো; দাহ্য তরল।
দাউদাউ করে জ্বলছে অগ্নিশিখা…

যেখানে আমার সৃষ্টি,সেখান থেকে আজও চুইয়ে পড়ছে কাঁচা রক্ত; অসহ্য যন্ত্রণা তার তলপেটে। সন্তানশোক সে’ যন্ত্রণাকে হার মানাতে অপারগ। সন্তানকে ছুঁয়ে দেখতে দেয়নি একটিবার। থমকে গিয়েছিল সমাজ।

মড়াকাটা ঘর থেকে প্রসূতিবিভাগ খুব দূরে নয়।
নবজাতকের কচি আঙ্গুল স্পর্শ করে আছেন ডোমের স্ত্রী। ডোম তখনও সন্তান বয়সী সন্তানকে মাটি চাপা দিচ্ছেন; কোনো ক্লান্তি নেই সদ্য বাবা হওয়া মানুষটিরও।

ছড়ানো খৈ খুঁটে খায় খেতে না পাওয়া মানুষের দল।
উপরি পাওনা আধুলি; সন্তান বাবা বলে জড়িয়ে ধরে।

বাবা’রা এভাবেই থেকে যায়; মায়েরা হয়ে যায় নদীতট। আসলে,”জন্ম হয়েছে যাদের তাদের কান্নাটুকুই সম্বল”

জন্মের পর আমরা প্রাণীজাত হয়ে উঠি,
আর মৃত্যুর পর ভগবান…

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

অকপট কবি

কবি তন্ময় দাস
কবি তন্ময় দাস এর কবিতার বই

উত্তর ২৪ পরগণার গাইঘাটা নামের এক মফস্বল এলাকার ছেলে তন্ময় দাস৷ ছোটো থেকেই ডানপিটে, অবাধ্য এই ছেলেটি দিনশেষে একা থাকতে ভালোবাসে। ভালোবাসে নিজের সাথে সময় কাটাতে। আর এই সময় কাটানোর অজুহাতে মনের কথাগুলো একের পর এক লিখে রাখছিলো নিজের কাছে। সেখান থেকেই জন্ম কবিতার,কবির৷ ফেসবুক জুড়ে বেশ জনপ্রিয়তা। সেই রেশ ধরেই ২০১৯ কলকাতা বইমেলায় প্রথম বইপ্রকাশ; বিপুল সারা… তারপর, সুতরাং এর তরফ থেকে তরুণ কবি সাহিত্য সম্মানে সম্মানিত হওয়া। সবকিছু মিলেমিশে তন্ময় কিংবা ফেসবুকের উন্মাদ একটা পরিচিত নাম।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

‘দরজা খোলা রেখো, আমি ফিরছি কিন্তু’

আজ মুখোমুখি দাঁড়ালে লজ্জা পাও; কিংবা এড়িয়েও চলে যাও।। ক্যানো?

কিন্তু এত লজ্জা কিসের, ভালোবাসার মানুষের কাছে কি আদৌ লজ্জা মানায়??

তোমার যন্ত্রণা, দুঃখ, আনন্দ সবকিছুই তো আমি ভাগ করে নিয়েছি এযাবতকাল; তবে আজ ক্যানো এত উদাসীনতা তোমার মধ্যে?

তোমার সকল ইচ্ছেজাগা রাত কাটিয়েছি একসাথে; কত পূর্ণিমারাত নির্ঘুম কেটেছে আমাদের; মনে পড়ছে?

ঘুমহীন সকালে অফিস গিয়েছি তবু, তুমি পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলতে আজ না গেলে হয়না? আমি তোমার এলোচুলে বিলি কাটতে কাটতে কপালে আলতো চুম্বন দিয়ে অদৃশ্য হতাম, চেনা গলিপথে;
তোমার চোখের জল আমায় আটকাতে পারতো না কোনোদিন।।

স্মৃতি পৃষ্ঠায় সবই আজ ধুকছে, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে আমায় শেষ করে দিচ্ছে সব; তবু তোমার অপেক্ষায় দিন গুনছি, ফিরে তো আসবেই, এ আমার বিশ্বাস।।

আজও কোনোএক রাতে জানালায় পাশাপাশি বসে হাতে হাত রেখে কথা বলতে ইচ্ছে হয়; তোমায় পাইনা।

চারিপাশে অগণিত প্রিয়মুখ, কিন্তু কথা বলবার মানুষ?
এভাবেই আমার বুকে সংগোপনে রয়ে গিয়েছো তুমি।।

একাকী পথে আমি হেঁটে যাই, দিগন্তরেখায় নিজেকে হারিয়ে ফেলি আজও; হ্যাঁ,বড্ড মনখারাপ,অভিমানে।

বিদ্যুৎহীন ল্যাম্পপোস্টের মতন আমিও একা;
প্রতিরাতে প্রতিমুহূর্তে। পাখিরাও বাসা বাঁধেনি।।

জানো, আজও প্রতি অফিস ফিরতি পথে টেক্সট করি তোমার ওই পুরনো নাম্বারে, তোমায় জানিয়ে রাখি-

‘দরজা খোলা রেখো, আমি ফিরছি কিন্তু’

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

মনখারাপ

ওই ব্যস্ত মেয়ে মনে পড়ে ওই বৃষ্টি বিকেল, পাহাড়ী ঝর্ণা; নিকোটিনে সুখ টান?
এক ছাতায় ভিজবো বলে অপেক্ষা করতাম; আজ বৃষ্টি আসে তোর আকাশে, আমার হৃদয়ে তখনও এক আকাশ রোদ। জিওলোজি’র ছাত্রী ছিলিস,আমি তোকে ছন্দ শেখাতাম। কবিতা লিখেছিলিস আমার জন্য, যেদিন শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম অনেকটা দূরে, যেখানে আমার ছায়াপথ মিশে যায় এক আকাশ মেঘের দাবদাহে…

মেঘ ডাকছিলো, আমি তখনও কলতলায়;
মা বকছিলো ঘরে আয়, চিন্তা হচ্ছে যে।
ঘরে এসে দেখি আট আটটা মিসডকল; যদিও বহুদিন কথা নেই। তুই পাহাড় ভালোবেসে নদীকে ভুলেছিলিস, একবারও ভাবিসনি মেঘই তোকে স্নান করাবে প্রতি বর্ষামুখর সন্ধ্যায়।

বর্ষাত্যয় বিকেলে আমরা কাছাকাছি থাকতাম, আকাশ ক্যানভাসে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, টাট্টুঘোড়া খুঁজে নিতাম।

এখন তুই চেরাপু্ঞ্জিতে সংসার পেতেছিস,
তোর আকাশে মেঘের ঘনঘটা ; টাট্টুঘোড়া দেখতে হলে তোকে কলকাতায়, ময়দানে আসতে হয়। আমার কাছাকাছি।

তোর সদ্য ওঠা বুকফুলে হাত রাখতে বলেছিলি, আমি তোর নরম ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে বলেছিলাম, ভালোবাসি।

আমরা আমাদেরকে ভালোবেসে ফুল হয়ে উঠেছিলাম, বৃষ্টির জলে গাছটা পুনরায় বেঁচে উঠেছিলো। যদিও অভিমানী ঝড় আমাদের উপড়ে ফেলেছিল, তুই বলেছিলিস গোড়াতে ভালোবাসার অভাব ছিলো বোধহয়; আমি বলেছিলাম বিশ্বাস।।

তুই এখন কমলাদ্বীপের বাসিন্দা; এক ছেলের মা। পাঁচ মাসের গর্ভবতী…

আমার শহরে বৃষ্টি হচ্ছে,আকাশের মুখভার।
আমি ভিজে চুপসে যাচ্ছি; বাঁদিকে তখনও এক আকাশ মনখারাপ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *