Tue. Sep 24th, 2019

রঙিন অক্ষর সম্পর্ক

প্রাণেশ ভট্টাচার্য

1 min read
Spread the writing

উজ্জ্বয়িনীকে-৩

প্রসঙ্গজন্ম জুড়ে উৎপাত, উদ্বিগ্ন প্রহরসমূহ
মায়াঘরে ছিটিয়ে রয়েছে শেষ বিকেলের রোদ।
হিসেবের শেষটুকুকে দোদুল্যমানতায় নির্বাসিত করে
আমি এক অলীক জন্ম লাভ করি রোজ।

শান্ত ঘরের সমস্ত নিস্তব্ধতা আত্মসাৎ করে,
জোৎস্নাস্নানের ব্যাকুলতা উপেক্ষা করে
প্রচ্ছন্ন আবহসঙ্গীতে,
তোমাকে এখনই সৃষ্টি করার সময়, উজ্জ্বয়িনী।

লেবু ফুলের গন্ধে ছৌ নাচছে সময়,
তোমাকে আগলে রাখার কোনও দায় আমার নেই
ভবিষ্যতের গভীরতায় নেই কোনও অস্তিত্বের সঙ্কট
দ্বিমাত্রিক স্পর্শের আলাপচারিতা আগলে যত আহ্লাদী আর্তনাদ।

ব্যাকুলতা পেরিয়ে যে আনচান উদারতায় ঘিরে ফেলি তোমাকে,
তা কোনও মহাজাগতিক অস্থিরতা নয়, উজ্জ্বয়িনী।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

লজ্জিত ক্লোরোফিল

উচ্ছন্নে জীবন কাটাচ্ছি নোনতা বিলাপে
ধোঁয়াটে তামাশা পেরিয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে না প্রেমিকার প্রিয় সুর
চিৎকারে আত্মবিলাপ
ছিঁড়ে ফেলা হলদে মলাটে যৌবন-গন্ধ।

কাটাকুটি খেলতে খেলতেই আমরা প্রেমে পড়েছিলাম
উপহার হিসেবে তোমাকে দিয়েছিলাম একটা নির্জন দুপুর
লজ্জিত চিবুকে ভীড় করেছিলো ক্লোরোফিল।
খুঁটে খাওয়া চোখে ঠিকরে পড়ছিলো সংসারী আলো।

সাধের পাঁঠাতে মা যেদিন বেশি নুন দিয়ে ফেলেছিলো,
সেদিন মাকে আমাদের প্রেমের কথা জানিয়েছিলাম
উচ্চারণের জড়তা পেরিয়ে,
শহরের বুকে মুহুর্ত মেপেছিলো রংচটা দেওয়াল লিখন।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কবি পরিচিতি

১৯৯৬ সালের ২২জুলাই পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার রঘুনাথপুর গ্রামে জন্ম। বাবা গৌতম ভট্টাচার্য ও মা কৃষ্ণা ভট্টাচার্য। ২০১৭ তে কলকাতার বিদ্যাসাগর সান্ধ্য কলেজ থেকে ইংরেজী বিষয়ে স্নাতক।

বর্তমানে সম্পাদনা করছেন “৯নং সাহিত্য পাড়া লেন” পত্রিকাটি। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “এবং ইচ্ছেরা” (২০১৭), “কাঠকয়লার নরম বিছানা” (২০১৭) এবং “খামখেয়ালি রোজনামচা” (২০১৮)

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

চলমান দেওয়াললিখন

নিষিক্ত সততায় ছোঁয়াচে গন্ধের আনাগোনা
তোমাকে দেখলেই আমি জলোচ্ছাস
বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে পুরনো আলাপ খুলে
বিষয় থেকে বিষয়ে ঢেকে রাখা প্রেমের মুক্ত নিঃশ্বাস খুঁজি

ঠোঁটের ঠিকানা বেয়ে ঝরে পড়ছে
আমার স্নেহ, আমার নিস্পাপ আলোড়ন।
খেয়ালি মঞ্চে একক অভিনয়ে আমি পারদর্শী নই
রাতের শ্মশান আমাকে ঘিরে ধরলে,
প্রেমিকার বুকে আমি পাখি এঁকে দিই।

বিশ্বস্ত হলফনামা জুড়ে যে দৈনিক আত্মমৈথুন
চলমান ক্রিয়াতে তার স্পষ্ট ও অস্পষ্ট দেওয়াললিখন।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

অনুতপ্ত নিঃশ্বাস

যে খেয়াল আমাকে হিসেব করেনি কোনদিন,
পারাপারে তার অসঙ্গতি নেই।
ছিন্ন আলোর তালিকাজুড়ে কোলাহল আর কলরব
তোমার কোলে শুয়ে আছে ভোরের ঘুম।

আত্মপ্রত্যয়ে সেরে উঠছে অনুতপ্ত পাশবালিশ
আমাকে আামার করে কেউ ভাবেনা।

ঘুমন্ত ঠোঁটে শিউলি শিউলি আবহাওয়া
আর ব্যালকনি জুড়ে ফুটে থাকা কয়েকটি রজনীগন্ধা।
সুগন্ধী বাতাসে ভীড় করে আছে মত্ত আঁচল
উন্মাদ তিথিতে হেসে উঠছে ফিনফিনে মৌনতা।

চিত্রনাট্য শেষ হয়ে গেলে,
সামাজিক নীরবতা ভেদ করে কার্টেন পড়ে যাবে স্থির চোখে।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

2 thoughts on “প্রাণেশ ভট্টাচার্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *