Tue. Sep 24th, 2019

রঙিন অক্ষর সম্পর্ক

ফড়িং

1 min read
Spread the writing

উত্তর অর্থহীন

বলি আজও কি মদ গিলে স্মৃতিরোমন্থন করো প্রাক্তনদের?
আজও বেসামাল হয়েই ঘুমিয়ে পড়ো, শার্ট না ছেড়ে?
আজও রাত বাড়লে সব ছেড়ে দিনবদলের কবিতা লেখো?
নাকি বর্তমান বান্ধবীর জন্য এখন কাব্য আসে মাখোমাখো?

বলছি মনে পড়ে নন্দনে ভিজে এক ফোন বান্ধবীকে? এক্ষণই আয়!
কতটা শার্টের আস্তিন ভিজতো তখন, হিসেব কি ছিল বুকপকেটে?
আজ বুঝি অন্য কেউ জুটেছে?
শোনো, আজও কি কাউন্টারে অসুখ বাড়াও বসন্তের অজুহাতে?

আমার মতো চিঠি লেখে সে?
পাঞ্জাবীর বোতাম লুকিয়ে প্রেম বাড়ায়?
আমার মতো ওই লম্বা চুলে তোমার, অগোছালো খোঁপা বেঁধে দেয়?
আমার মতো ব্যোমকেশ-ফেলুদার চর্চায় গোটা রাত কাটানো যায়?

বলছি, ভালো রাখে তো বর্তমান?

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

অকপট কবি

ফড়িং এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ” ইতি, অপ্রেমিকা”

উত্তর ২৪ পরগণার হাবড়ায় লেখিকার জন্ম, কিন্তু পরবর্তীতে গোটা পড়াশোনাটাই কলকাতায়। সাহিত্যপ্রেমী লেখিকা বাংলায় স্নাতক হওয়ার পরে, বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারী স্কুলের শিক্ষিকা। ছোটবেলায় অত্যন্ত রোগা ও দুরন্ত হওয়ার কারণে স্কুল ও পাড়ায় সবাই ফড়িং ব’লে ডাকতো। সেই নামের রেশ ধরেই পরে লেখিকা, ‘ফড়িং’ ছদ্মনামেই লেখালেখি শুরু করেন। গত ক’বছর ধরে ফেসবুকে ও নামকরা কয়েকটি পত্রিকায় লেখালেখির সূত্রে লেখিকার জনপ্রিয়তার পর, তার প্রথম বই প্রকাশ হয় ২০১৯ কলকাতা বইমেলায়। এছাড়াও লেখিকা বেশ কিছু বাংলা পত্রিকার প্রুফরিডিং-ও করেন।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

উড়নচন্ডী মেয়েদের জন্য

আমি এক উড়নচন্ডী মেয়ে…
পড়াশোনা, সভা-সমিতি, মিটিং-মিছিল ইত্যাদি যাবতীয় যা কিছু সিরিয়াস কাজ,
আমি তার ফাঁকেই—
মনোযোগ হারিয়ে আকাশ-পাতাল চিন্তায় মাখি;
আমার তখন ইচ্ছে হয়, কাজগুলোর পিন্ডি চটকিয়ে এক ছুটে চলে যাই রেলগাড়ি দেখতে।
ইচ্ছে হয় দায়িত্ব-জ্ঞানহীন হয়ে পাহাড়ের টিলায় উঠে কাশফুলের বন দেখি,
দু-তিনদিন কেউ খুঁজে পাবে না, বেশ হবে!

স্বাধীনভাবে চিন্তায় ডুববো, শৌখিনতাকে চুলোয় পাঠিয়ে চোখে কালি নিয়ে নতুন শিল্পের খোঁজে মাতবো,
হলে হবে, না হলে না! চেষ্টায় ক্ষতি কি?
পাগলামি করবো মন খুলে, তখন একদম মনে রাখবো না যে— আমি কারোর মেয়ে, কারোর স্ত্রী, কারোর মা;
তখন আমি আদিম নারী, যার পিছুটান নেই…

আমি এক উড়নচন্ডী মেয়ে…
নিজের ইচ্ছেমতো চুল কাটি, একদম বয়েজ কাট মার্কা,
ইচ্ছেমতো ধ্যেড়ে গলায় গান গাই,
নেলপলিশ পরিনা, হাত-পায়ের-বগলের চুল কাটিনা, তাতে কি হল?

এই নাকি ভারত স্বাধীন?
এই নাকি বাংলাভাষা ব্যাকডেটেড বলে তা লুপ্ত হওয়ার জোগাড়?
এই নাকি ক্রপ টপ, হট প্যান্ট, ইংলিশ মিডিয়ম স্কুল, দামী বাইক ইত্যাদি ছাড়া এই শতাব্দী অচল?
…তবে তো ভালোই! স্বাধীন দেশে আমিও স্বাধীন চিন্তায় বাঁচব,
আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখবো আবার কখনও অনেক ভুল-ত্রুটির মাধ্যমে নিজেকে ভেঙে গড়ে তুলব…
আমার সব অগোছালোপনা আমার থাক, আমার মতো সব মেয়ের থাক, আমার মতো সব নারীর থাক।
এমন উড়নচন্ডী মেয়ে সব ঘরে থাক…

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

যা কিছু প্রেম-মাফিক

প্রেম কি?
বছর দশেক পরে ব্যস্ত শহরের কফিশপের বাইরে ‘হঠাৎ দেখা’-রা জানে।
কিছু কিছু জানে একাকী রাতের না-বাজা টেলিফোনগুলোও…

প্রেম কি?
দেখা হবে বলে আর কখনও দেখা না হওয়া ‘এক-মৃত্যু সমান’ বিচ্ছেদ জানে।
জানে, বলা না হয়ে ওঠা সমস্ত চুপকথারা।
ওই যে কৃষ্ণচূড়াদের অপেক্ষক হওয়া প্রতিটা হলুদ রাধাচূড়ারা জানে।

প্রেম কি?
এককালীন জোর করে পাল্টে ফেলা,
তার সঙ্গে জুড়ে থাকা সমস্ত অভ্যেসকে জিজ্ঞেস করো— উত্তর পাবেই পাবে।

কি ক’রে?
যুক্তি-তর্ক পেছনে ফেলে মন যেখানে ব্যথা পেতে দৌড়ায়,
সেখানে দেখা হতেই পারে প্রেমের না লেখা সংজ্ঞার সঙ্গে…

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

তোমার-আমার শহর

আমার শহরে সনাতনী প্রেমের ওড়না ওড়ে,
তোমার শহরে একবিংশীয় যুগের চাল-চলন।
আমার শহর প্রায়শই চিঠিতে আবেগ ঠাসে, সাক্ষাতে অল্পবিস্তর,
তোমার শহর কেতাদুরস্থ; মন কম, মস্তিষ্কে হয়তো বেশি নির্ভর।

আমার শহরে মাসিক চুমু মনের সিন্দুকে, আবেগ কাঁপে আলিঙ্গনে,
তোমার শহর অত্যাধুনিক, এক রাত্তিরের থিওরিতে বাঁচে।

তোমার শহরে এখনও বুঝি রক্তবর্ণ লালের ছোঁয়াচ?
আমার শহরে আজও স্নিগ্ধ হলুদের প্রেমিকা আনাচ-কানাচ।

শহর নয়! এ তো তোমার-আমার পৃথিবীর ফারাক,
আমাদের দূরত্ব বিদ্যমান থাকুক, তবুও ভালো থাকা বেঁচে থাক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *