Tue. Sep 24th, 2019

রঙিন অক্ষর সম্পর্ক

শাশ্বত চক্রবর্তী

1 min read
Spread the writing

আপনার কোনো ধর্ম নেই

তারপর ঈশ্বর বললেন—

“প্রেম ! কবিতা কি শুধুই প্রেমের ?অন্ধ-অরাজকতায়
বিষিয়ে উঠেছে আমার পৃথিবী ! যে পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছি
বহু-সহস্র রজনীর নিদ্রা বিসর্জন দিয়ে, সে আজ শয়তানের
ছলনায় মধ্যযুগের সময়স্রোতে পতিত,আরো একবার !
তোমরা চাও না বদল ? চাও না,আজ উপন্যাস হয়ে উঠুক
বিপ্লব , প্রতিটি কলম হয়ে উঠুক তলোয়ার ! তোমরা নতুন
দিনের অগ্রদূত !”

নতমস্তকে সামনে দাঁড়িয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় তখন
নিশ্চুপ । অতি-উৎসাহী বৃদ্ধের মুখের সমস্ত বাক্য যেন
কেড়ে নিচ্ছে কেউ,যেমন শেষ রাতের আঁধার একাই নীলকন্ঠ
হয়ে শুষে নেয় দিবাকর ।

সেই অমানবিক নিস্তব্ধতায় একমাত্র শব্দ এলো তারপর।
এক তরুণ যুবক — তার শেষ প্রানটুকুও নিঃশেষ করে দিয়েছে
ঈশ্বরের সর্বশক্তিমান সৈন্যদল । সে আকালের ভয় করেনি,
সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতনের পরেও সে বিশ্বাস করতো,কোনো
একদিনতার প্রেমিকা তাকে ভালোবাসবে । কোনো একদিন
সে ভালোবাসা কাকে বলে দেখিয়ে দেবে , আর তা দিয়ে
বদলে দেবে শয়তানকেও ।

ঈশ্বরের রাজত্ব সে কেন চায়নি কখনো ! এমন ভুল কেন
করলো সে !

নাহ,তার মৃতদেহের মুখ দিয়ে কোনো আওয়াজ আসেনি আর।
বরং তার স্বর্ণ-শৃঙ্খল শব্দ করে ওঠে এবার। কেউ শুনতে পায়নি
কিছুই—
কিন্তু তার শেষ নিঃশ্বাস স্পষ্ট ফিসফিস করে বলে গেল
“ভগবান তুমি যুগে যুগে দূত ……”

বহু-দূরে,আসন্ন যুদ্ধের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে,বৃদ্ধ শয়তান
মুচকি হাসলেন । ঈশ্বর তাকে এবার সত্যিই হারিয়ে দেবেন
হয়তো , এ যুদ্ধই হয়তো শেষ। শেষ তাস-টা আস্তিন থেকে
বের করতে প্রস্তুত হলেন তিনি।

প্রতিবাদ কেউ কাউকে শেখাতে পারেনি ।
…….

অনেক কোটি আলোকবর্ষ পর,আরো একবার দেখা হলো যুযুধান
দু-পক্ষের ।

ঈশ্বর আজকাল অনেক একা থাকতে পছন্দ করেন। কাছের
যেসব ফুল ছিল,তারা ছেড়ে চলে গেছে বহুদিন। মানসিক
বিপর্যয় সামলাতে সামলাতে কেটে গেছে অগুনতি সময়
তাও ফিরে পাননি নিজেকে ।

চারিদিকে আজ আরো একবার রক্তের স্রোত বইছে , ভেসে গেছে
বিশ্বাসের সবকটা মূল স্তম্ভ ।

দিনের যুদ্ধ-শেষের শঙ্খ বাজলো একসময়,ক্লান্ত দেহে তখন ফিরে
যাচ্ছেন শিবিরে। এমন সময় সামনে এসে দাঁড়ালো এক রক্তাক্ত
যোদ্ধা ! কপাল ঢাকা উজ্বল শিরস্ত্রানে, চিবুক বেয়ে চুঁইয়ে পড়ছে
কালচে রক্ত। হাতের মশাল কেঁপে উঠছে ক্ষণে-ক্ষনেই —আলো
অন্ধকারের রহস্যময় অন্তরঙ্গতা শুরু হয়েছে তখন ।

হতাশ কণ্ঠে ঈশ্বর জিজ্ঞেস করলেন –“কে তুমি ! “

যোদ্ধা নিজের শিরস্ত্রান খুলে দাঁড়ালেন। শিউরে উঠলেন ঈশ্বর ।
চোখের নিচে ভয়ের ঝলক দেখা দিয়েই মিলিয়ে গেল দ্রুত !
এক অজানা আনন্দে প্রশ্ন করলেন ,
“এখনো লেখো প্রেমের কবিতা ? পারো,আমায় জিতিয়ে দিতে ?”

শেষ রক্তবিন্দু ক্ষয়ে যাওয়ার আগে যোদ্ধা বললেন-
“কলমটা একদিন আপনিই ভেঙে দিয়েছিলেন । আপনি
সব পারেন,কিন্তু আমার কলম আপনি আর কখনো বানাতে
পারেননি । কারণ আপনার কোনো ধর্ম নেই !”

বহু কোটি আলোকবর্ষ পিছিয়ে তখন আরো একবার মিটিমিটি
হাসছেন শয়তান !

সত্যি, প্রতিবাদীর কোনো ধর্ম নেই ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *